কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করে সংসদে আইন পাশ করার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসম্মেলন করেছে আন্তর্জাতিক তাহাফ্ফুজে খতমে নবুয়ত সংগঠন।বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শহরের জেলা ঈদগাহ মাঠে এ সম্মেলন চলে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, জেলার ৯টি উপজেলা-সহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার কওমী মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের তাওহীদী জনতা ব্যানার-ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে মহাসম্মেলনে যোগ দেন। দুপুর ১২টা নাগাদ জেলা ঈদগাহ মাঠ লোকে-লোকারণ্য হয়ে আশ-পাশের সড়ক এলাকায় উপচেপড়া ভিড় জমে উঠে।

খতমে নবুয়তের মহাসম্মেলনের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হয়।জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা আশেকে এলাহী ইব্রাহীমির সভাপতিত্বে মহাসম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইসলামি ঐক্যজোটের সভাপতি মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুফতি ওয়াক্কাস, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মুফতি মামুনুল হক, ভাদুঘর দারুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুনিরুজ্জামান সিরাজী, জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিসা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মোবারক উল্লাহ, দারুল আরকাম মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা সাজিদুর রহমান ও খেলফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, সকাল থেকেই অনেকটা হরতাল আবহ ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সমাবেশের সময় সকাল ১০টা হলেও নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা আগে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলের স্রোতে শহরের প্রধান সড়ক টিএ রোডের যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। কুমারশীলমোড়, তোফায়েল আজম মনুমেন্ট, টিএ রোড, কালীবাড়ি মোড়, কাউতলী মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে সাধারণ মানুষ অবস্থান নেয়। কালীবাড়ি মোড় থেকে ঈদগাহ মাঠ সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকে সারাদিন।

এ সড়কে মানুষের তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না। বেলা ১২টার মধ্যে সমাবেশস্থল ও আশপাশ এলাকায় লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। সমাবেশকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে তিন শতাধিক পুলিশ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। মহাসমাবেশের প্রভাব পড়ে শহরের সর্বত্র। ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি অন্যান্য দিনের চেয়ে কম ছিল।

স্মরণকালের বৃহত্তম এ মহাসমাবেশ বক্তারা অবিলম্বে সরকারিভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানান। বলা হয়, জেলায় মাত্র ১৭০০ কাদিয়ান রয়েছে। কোনো প্রকার সংঘাত সহিংসতা আলেমসমাজ ও মুসলিমসমাজ চায় না বলেই তো অহিংস আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে। যতদিন তাদের অমুসলিম ঘোষণা না করা হবে ততদিন এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, যারা আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে শেষ নবী হিসেবে না মানবে তারা নিঃসন্দেহে কাফের।

তিনি বলেন, কাদিয়ানীরা কখনো মুসলমান হতে পারে না, তারা শয়তান, তারা কাফের। কেউ যদি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে শেষ নবী না মানেন ওই ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবেন। তওবা না করলে তিনি আর মুসলমান হতে পারবেন না।তিনি বাংলাদেশে সরকারিভাবে কাদিয়ানিদেরকে কাফের ঘোষণা করার দাবি করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেই কাদিয়ানিদের কাফের ঘোষণার আন্দোলন শুরু হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here