দিল্লিতে শত শত লোক মা’রা গেছে কিন্তু মিডিয়ায় সঠিক তথ্য আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর।নুর বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উগ্র হিন্দুত্ববা’দী স’ন্ত্রাসী সংগঠন আরএসএস (RSS) ও বিজেপির উগ্র সমর্থক, নেতাকর্মীরা দিল্লিতে টার্গেট করে মুসলিমদের ওপর হা’মলা চালিয়েছে। বাড়িঘর, দোকান ও মসজিদে আ’গুন দিয়েছে।

শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।নুর আরও জানান, দিল্লি সহিং’সতা নিয়ে তার এক ভারতীয় বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়েছে। সে বলেছে, ‘বিভিন্ন এলাকায় যে সহিং’সতা হয়েছে, তাতে শত শত লোক মা’রা গেছে; মিডিয়ায় সঠিক তথ্য আসেনি।

সহিং’সতা, হা’মলায় যারা অংশ নিয়েছে, তারা বহিরাগত এবং মূলত আরএসএস বিজেপির কর্মী, সমর্থক ছিল। এমনকি কোনো কোনো জায়গায় পু’লিশই হা’মলা চালিয়েছে, অ’গ্নিসংযোগ করেছে।’

উল্লেখ্য ভারতে প্রায় তিন মাস ধরে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বি’রুদ্ধে লাগাতার বি’ক্ষো’ভ চলছিল। এরই মধ্যে রাজধানী দিল্লিতে গেত রোববার থেকে ছড়িয়ে পড়ে ভ’য়াবহ সহিং’সতা। বুধবার পর্যন্ত স্থায়ী ওই সহিং’সতায় কমপক্ষে ৪২ জন নি’হত হয়েছে। আ’হত হয়েছে আরও ৩ শতাধিক মানুষ।

নাগরিকত্ব আইনের পক্ষ-বিপক্ষের মানুষরা বলছেন, মাঝ ডিসেম্বরে যেদিন থেকে শাহীনবাগে মূলত নারীরা রাস্তায় নেমে প্র’তিবাদ শুরু করেন, আর তারপরে যখন সেই প্র’তিবাদের আদলেই কলকাতার পার্ক সার্কাস বা দেশের নানা জায়গায় শুরু হয় লাগাতার ধর্না – তখন থেকেই শুরু এই দাঙ্গার পটভূমি তৈরির।

যে দ্রুততার সঙ্গে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দাঙ্গা ছড়িয়েছে, আর তার যা সব ভিডিও এবং প্রতিবেদন সামাজিক ও গণমাধ্যমগু’লিতে দেখা গেছে, তাতে প্রথমদিকে পু’লিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রশ্ন তুলেছে দিল্লি হাইকোর্টও, যদিও সেই বিচারপতিকে একদিনের মধ্যেই বদলি করে দেয়া হয়।

তবে দিল্লির দাঙ্গায় বহু প্রা’ণহা’নি এবং সম্পত্তিহানি হওয়া সত্ত্বেও এর একটা ইতিবাচক দিক দেখছেন রাজনৈতিক ভাষ্যকার দেবাশিস ভট্টাচার্য। তিনি বলছিলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপরে হা’মলা প্র’তিবাদকারীদের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেবে, প্র’তিবাদের স্থান আরও বেড়ে যাবে বলেই আমার ধারণা।’

দিল্লির উত্তরপূর্বে যখন মৃ’ত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে দাঙ্গার বীভৎসতার ছবি আর প্রতিবেদন, তার মধ্যেই চর্চা হচ্ছে দাঙ্গার ক্ষত কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে, তা নিয়েও। কেউ কেউ মনে করছেন, এর ফলে নাগরিকত্ব আইন বি’রোধী প্র’তিবাদ আরও ছড়িয়ে পড়বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here